রোগ নিরাময়ে ‘মহৌষধ’ আদা
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : আদ্রক থেকে হয়ে গেল আদা। এই আদা শুকিয়ে গেলে শুঁঠ বা শুণ্ঠী হয়। যাকে মহৌষধও বলা হয়ে থাকে। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে আদা না খাওয়া ভাল। তবে প্রয়োজন হলে অল্প মাত্রায় খেতে পারেন। শুঁঠের ব্যবহারে কোনও বিধি-নিষেধ বাধা নেই। উল্লেখ্য, রান্নায় ও নানাবিধ খাদ্য প্রস্তুতিতে শুঁঠের ব্যবহার বেশি হয়। পাশাপাশি ওষুধ হিসেবে কাঁচা ও শুকনো আদা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, কাঁচা আদা এক গাঁট বা ২-৩ গ্রাম, শুকনো আদা চূর্ণ ১-৩ গ্রাম মাত্রায় ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। আদা রান্নায় ব্যবহার করা হয় পরিমাণ মতো স্বাদ অনুযায়ী। আদা ও শুঁঠের গুণ রয়েছে একাধিক। রোগ নিরাময়ে আমরা এর ব্যবহার করে থাকি। যেসব রোগে আদা ও শুঁঠ ব্যবহার হয়ে থাকে সেগুলি হল- অগ্নিমান্দ্য, অজীর্ণ, অতিসার, অম্লপিত্ত, অরুচি, অর্বুদ, অর্শ, অশ্মরী (মূত্রপাথুরি), পেটফাঁপা, আমবাত (রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস), আমাশয় শোথ (প্রদাহ), আমাশা, ইনফ্লুয়েঞ্জা (শ্লেষ্মক জ্বর), উদর রোগ, শীতপিত্ত, কফরোগ, কর্ণরোগ, কামলা (জন্ডিস), কাশি, গলাব্যথা ও গৃধ্রসী (সায়াটিকা) প্রভৃতি।
এছাড়া গ্রহণী (ক্রনিক ডায়ারিয়া অ্যান্ড ডিসপেপসিয়া), জিহ্বা রোগ, জ্বর, তালুরোগ, দন্তরোগ, দাহ, নাসারোগ, পরিণাম শূল (ডিওডেনাইটিস), ফুসফুসের রোগ, শ্বাস, বমন, বাতব্যধি, বাত রক্ত (গাউট), মূত্রকৃচ্ছ্র, মূত্রাঘাত, শিশুদের রোগ প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় আদার। আবার মূর্ছা এবং হৃদরোগেও এটির ব্যবহার হয়। প্রাচীন শাস্ত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, শুঁঠ সুগন্ধ যুক্ত, বায়ুনাশক, শরীরের বিকৃত স্রোতমার্গকে সঠিক করে। অন্যদিকে হজম ক্ষমতার বিভিন্ন সমস্যায়, পক্ষাঘাত, বাত, রক্ত, কফ-কাশি, ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাস (হাঁপানি), হুপিং কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, যক্ষ্মা, মাথার যন্ত্রণা, আধকপালি (মাইগ্রেন) এবং বাধক দোষ প্রভৃতি ক্ষেত্রে আদা বা শুঁঠের ব্যবহার উপকারী।
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মত, আদার রস হজমকারক। আহারে ও ওষুধে আদা ও শুঁঠেরোর ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। পক্ষাঘাত চিকিৎসায় এবং বাতরক্তে আদা ও শুঁঠের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি লালা নিঃসারকও। এক্ষেত্রে আরও জানানো হয়েছে, আদা ও শুঁঠে রয়েছে প্রোটিন, ফ্যাট, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ভিটামিন-সি প্রভৃতি। এছাড়া রয়েছে সামান্য পরিমাণে ভিটামিন-বি-কমপ্লেক্স, এসেনসিয়াল অয়েল, অলিওরেজিন, কেমফিন, বিটাফেলানড্রিন, সাইনিওল, সাইট্রাল, বরনিওল, জিঞ্জিরল, সোগোল, পটাশিয়াম অক্সালেট, জিঞ্জিবারিন এবং ফেলানড্রিন প্রভৃতি। সাধারণভাবে অজীর্ণ, অরুচি, কফ-কাশি-হাঁপানি-ব্রঙ্কাইটিস, সর্দি, জ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা, আমবাত, সাধারণ বাত ও ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় আদা-শুঁঠ ব্যবহার করে থাকি। সব মিলিয়ে আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় আদার একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
খবরটি পড়ে ভাল লাগলে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার করে পাশে থাকবেন।

